নিজস্ব প্রতিবেদক , গাইবান্ধা
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধার সাপমারা ইউনিয়নে চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার দাপট ও স্লিপ চুরির অভিযোগে সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সারোয়ার হোসেন চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক বিপুল সংখ্যক স্লিপ হাতিয়ে নিয়েছেন। চেয়ারম্যানের দাবি অনুযায়ী, বিএনপি নেতা সারোয়ার প্রথমে ৫৫৮টি স্লিপ নেন এবং পরে আরও স্লিপের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এমনকি ইউপি সদস্যদের কাছ থেকেও জোর করে স্লিপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এই চাপের মুখে এবং পরিষদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ায় চাল বিতরণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যার ফলে মানসিক চাপে চেয়ারম্যান অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সংরক্ষিত নারী সদস্য ফরিদা বেগমও একই ধরণের অভিযোগ তুলে জানান, তার ওয়ার্ডের জন্য বরাদ্দকৃত স্লিপের একটি বড় অংশ সারোয়ার হোসেন দাবি করেছিলেন, যা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বারবার ফোন করে চাপ দেওয়া হয়।
পাল্টা অভিযোগ বিএনপি নেতার তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সারোয়ার হোসেন চৌধুরী। তিনি এই ঘটনাকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেন, চেয়ারম্যান নিজের অনিয়ম ঢাকতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তার দাবি, চেয়ারম্যান ও কয়েকজন ইউপি সদস্য মিলে প্রকৃত দুস্থদের বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের মাঝে স্লিপ বিতরণ করেছেন। ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্লিপ বিতরণের বিষয়টি ধরা পড়ার পর থেকেই এই উত্তেজনা শুরু হয়েছে বলে তিনি পাল্টা দাবি করেন।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবাদমান এই পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষ সময়মতো চাল না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জানা গেছে, প্রশাসনের সহযোগিতায় পুনরায় বিতরণ শুরু হলেও এখনো ১৪২ বস্তা চাল বিতরণ বাকি রয়েছে। এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক আধিপত্যের বলি হচ্ছেন প্রকৃত দুস্থ মানুষ।
