আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নয়াদিল্লি: ভারতের রাজনীতিতে নিজেকে ‘অবিবাহিত’ ও ‘কুমার’ দাবি করে একসময় মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গেও তুলনায় এসেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চা বিক্রেতা থেকে ক্ষমতার অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানো এই নেতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ধোঁয়াশা বহুদিনের। ক্ষমতায় বসার পর যশোদাবেন নামে তার এক স্ত্রীর অস্তিত্ব জানা গেলেও আজ পর্যন্ত তাকে স্বীকৃতি দেননি মোদি। তবে এবার তার বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ এক নৈতিক স্খলনের অভিযোগ, যা করেছেন তার নিজের দল বিজেপিরই বর্ষীয়ান নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী।

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত ও যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফ্রি এফস্টাইনের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে যতজন নারী এমপি বা মন্ত্রী হয়েছেন, প্রায় সবাইকেই তিনি ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ মাধ্যমে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। স্বামী আরও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং এস জয়শঙ্করের মতো নেতারাও এমন অনেক গোপন তথ্য জানেন।

সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর এই বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে সেটিকে সমর্থন জানিয়েছেন মোদির একসময়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশোয়ার। একসময় মোদিকে জাতির জনকের সঙ্গে তুলনা করা মধু কিশোয়ার এখন কেন এত সরব, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।

তিনি তার পোস্টে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানির নাম উল্লেখ করে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে, তিনি আসলে কীভাবে এবং কোন যোগ্যতায় মন্ত্রী হয়েছিলেন? তার এই মন্তব্য সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর অভিযোগের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে।

নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে এত গুরুতর এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ উঠলেও সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বা মধু কিশোয়ার—কেউই এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আনতে পারেননি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদি, তার দপ্তর বা বিজেপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজের দলের নেতার কাছ থেকে আসা এমন অভিযোগ মোদি এবং বিজেপির ভাবমূর্তির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। ‘এপচিন ফাইল’ প্রকাশের পর থেকে মোদির অনেক গোপন তথ্য সামনে আসছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, এই নতুন বিতর্ক তাতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *