নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

রাজধানীতে কম মূল্যে পাঞ্জাবি বিক্রি করার জেরে একটি প্রতিষ্ঠিত শোরুম বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সেবা দিতে গিয়ে তিনি এখন জীবননাশের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

সম্প্রতি রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পাঞ্জাবি শোরুম বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী একটি মহল। শোরুম মালিকের অভিযোগ, ঈদ উপলক্ষে তারা ৯৯০ টাকায় উন্নতমানের পাঞ্জাবি বিক্রি করছিলেন, যা অন্যান্য নামী ব্র্যান্ডের তুলনায় অনেক কম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাজারের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট তাদের ওপর চড়াও হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শোরুমের মালিক বলেন, “আমার জীবন অনেক মূল্যবান। পাঞ্জাবি বিক্রি করতে গিয়ে আমি প্রাণ দিতে পারব না। এই সিন্ডিকেটের কাছে আমি আত্মসমর্পণ করতে রাজি নই। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে আমি ব্যবসা বন্ধ করে প্রয়োজনে বিদেশে চলে যাব, তবুও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।”

ঘটনার দিন হাতিরঝিল থানার ওসির ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই ব্যবসায়ী। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ কর্মকর্তা তাকে আইনি সহযোগিতা দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।

ব্যবসায়ী জানান, ওসি সাহেব আমাকে ফোন দিয়ে বললেন— ঝামেলাটা নিজেরা মিটিয়ে নেন, কারণ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের অনেক ক্ষমতা। তিনি আরও বলেন যে, ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি নাকি ওপর মহলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং চাইলে তাকেও (ওসিকে) বদলি করে দিতে পারেন। একজন পুলিশ অফিসার যদি এতটা ভীতু হন, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ট্রেনিংয়ের সময় পুলিশ সদস্যদের কী শেখানো হয়? পুলিশের ভেতর এখনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারীরা ঘাপটি মেরে আছে কি না এবং তারা মাদকাসক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, এই মার্কেটে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ গোষ্ঠী রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। তিনি বলেন, “আমাদের উপস্থিতিতে মার্কেটটি আলোকিত হয়েছে, যা তারা চায় না। কারণ তাদের গ্রাহকরা আসে রাত ১১টা-১২টার পর। তারা অন্ধকার পছন্দ করে। আমরা গ্রাহকদের ভালোবাসা পাচ্ছি বলেই তারা আমাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে এই শোরুমটি বন্ধ করে দিয়েছে।”

উল্লেখ্য, এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রায় ২১টি শোরুম এবং ৬০০-এর বেশি কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। বিশেষ করে নারীদের জন্য পৃথক ফ্লোরে পর্দার সাথে কাজের পরিবেশ এবং ধর্মীয় অনুশাসন পালনের সুযোগ রয়েছে সেখানে। সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির এই মডেলটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেললেও এখন তা অস্তিত্ব সংকটে।

ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, “শহীদ ওসমান হাদির মতো আমাকেও যদি কেউ গুলি করে মারে, তবে কয়েক দিন পর সবাই ভুলে যাবে। কিন্তু আমার ছোট ছোট সন্তানদের কী হবে? আমি ইনসাফ পাব কি না, তা নিয়ে আমার শতভাগ সংশয় আছে।”

বর্তমানে এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সাধারণ ক্রেতারা এই সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং শোরুমটি পুনরায় চালু করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *