আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টোকিও/নিউ ইয়র্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পঞ্চম সপ্তাহে এসে পরিস্থিতি এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ত্রিমুখী হামলায় যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই ফাঁস হলো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতিসংঘ—এমনই দাবি করেছেন সংস্থাটির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
জাতিসংঘের ‘পেট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশন’ (PVO)-এর নির্বাহী পরিচালক এবং ইকোসক (ECOSOC)-এর বিশেষ পরামর্শক মোহাম্মদ সাফা এই অমানবিক পরিকল্পনার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তেহরানের মতো এক কোটি মানুষের জনবহুল শহরে পারমাণবিক হামলার একটি গোপন ‘ব্লুপ্রিন্ট’ তৈরি করা হয়েছে।
সাফার মতে, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা একটি শক্তিশালী লবির স্বার্থ রক্ষায় গাজায় গণহত্যা এবং লেবাননে জাতিগত নির্মূলের মতো ঘটনাগুলোকে আড়াল করছেন। তিনি বলেন,
“আমি এই মানবতাবিরোধী অপরাধের সাক্ষী হতে চাই না। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের এই নীরবতা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনবে।”
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্য ত্যাগ না করে এবং নতি স্বীকার না করে, তবে দেশটির অস্তিত্ব মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে না দিলে ইরানের খারক দ্বীপ, তেল ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।
মোহাম্মদ সাফার এই বিস্ফোরক তথ্যের সাথে সুর মিলিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) আঞ্চলিক পরিচালক হান বালখিও। তিনিও নিশ্চিত করেছেন যে, ডব্লিউএইচও একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের হামলার ক্ষতি পুরো বিশ্বকে কয়েক দশক ধরে ভোগ করতে হবে।
সতর্কবার্তা দেওয়ার কারণে মোহাম্মদ সাফা ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। সাফা মনে করেন, কেবল সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিবাদই এই সম্ভাব্য ধ্বংসযজ্ঞ রুখতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের আকাশে পারমাণবিক হামলার যে কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, তা রুখতে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
