গাজীপুরে ফিল্মি স্টাইলে ইমামের বাড়িতে হামলা পিস্তল ঠেকিয়ে ১৫ বছরের কিশোরী মেয়েকে অপহরণ
ইমাম হাদিউল ইসলাম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন: "ওরা আমার গলায় পিস্তল ঠেকিয়ে ধরেছিল। আমার মেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল— বাবা আমাকে বাঁচাও। কিন্তু ওরা আমার চোখের সামনে থেকে মেয়েকে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে গেল। আমি একজন অসহায় বাবা হিসেবে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম।"
নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীপুর | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
গাজীপুরের শ্রীপুরে এক ইমামের বাড়িতে দিনে-দুপুরে পিস্তল ঠেকিয়ে ও তান্ডব চালিয়ে তার ১৫ বছর বয়সী মাদ্রাসা পড়ুয়া মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃতা কিশোরী ফারিহাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি ঘটনার মূল হোতা আবিদ ও তার সহযোগী সুমিত এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। কিশোরী মেয়ের জীবন নিয়ে শঙ্কায় থাকা বাবা এখন দ্বারে দ্বারে আহাজারি করছেন।
গত বুধবার দুপুরে মাওনা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বায়তুল মুত্তাকিন জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ হাদিউল ইসলামের ভাড়া বাসায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ইমাম জানান, স্থানীয় সুরুজ মিয়ার ছেলে আবিদ দীর্ঘ দিন ধরে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকও হয়েছিল। কিন্তু সালিশ থেকে ফেরার পরপরই আবিদ ও সুমিতের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল এবং আরও ২৫-৩০ জন বহিরাগত ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল নিয়ে ইমামের বাড়িতে হামলা চালায়।
ইমাম হাদিউল ইসলাম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন:
“ওরা আমার গলায় পিস্তল ঠেকিয়ে ধরেছিল। আমার মেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল— বাবা আমাকে বাঁচাও। কিন্তু ওরা আমার চোখের সামনে থেকে মেয়েকে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে গেল। আমি একজন অসহায় বাবা হিসেবে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম।”
হামলাকারীরা বাড়ির দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ইমামকে লক্ষ্য করে পিস্তল উঁচিয়ে এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়। বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীর শ্বশুর ও স্ত্রীকেও হেনস্তা করা হয়। ৯৯৯-এ ফোন দিয়েও তাৎক্ষণিক কোনো সাহায্য পাননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। বর্তমানে গ্রেফতার আতঙ্কে এবং সন্ত্রাসীদের ভয়ে ইমাম হাদিউল ইসলাম নিজের বাড়িতেও থাকতে পারছেন না; গত তিন দিন ধরে তিনি শ্রীপুর ফ্লাইওভারের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।
ঘটনার মূল অভিযুক্ত আবিদ ছাড়াও সুমিত নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে সরাসরি পিস্তল ঠেকানোর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া স্থানীয় ছাত্রদল নেতা পাপ্পু ও সোহানের নামও উঠে এসেছে এই অপহরণের প্রত্যক্ষ সহযোগী হিসেবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় মূল আসামিরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে সমঝোতার জন্য চাপ দিচ্ছে।
এই ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ৩ জনসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করলেও মূল আসামি আবিদ ও অস্ত্রধারী সুমিত এখনো অধরা। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও (ইউএনও) প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোট ও হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, একজন ধর্মীয় নেতার মেয়ের সাথে দিনের আলোতে এমন সন্ত্রাসী আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফারিহাকে উদ্ধার এবং মূল আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ও মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
নিউজ নোট: সংবাদটি দ্রুত ছড়িয়ে দিন যাতে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসে এবং কিশোরী মেয়েটি নিরাপদে উদ্ধার হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ
ফ্যাসিস্ট আইনমন্ত্রীর খাসলোক, শরীয়তপুর সদরে আইনজীবীর কাছ থেকে চাদা দাবি করা সেই বেপরোয়া কর্মকর্তা ডেমরা সাব রেজিস্টার অফিসে দুই বছরের বেশি সময় ধরে একই চেয়ারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে
রাজধানী ঢাকার ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দলিল লেখক ভেন্ডার সমিতির সখ্যতায় একটি...
নরসিংদীতে গোসলে দেরি করায় ৭ বছরের মাদ্রাসা ছাত্রকে নির্মম নির্যাতন, অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার
পবিত্র কোরআন শিক্ষার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিল সাত বছরের শিশু মুজাহিদ। কিন্তু সামান্য গোসল...
নারায়ণগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব সাংবাদিকের ওপর ‘টিটু সিন্ডিকেট’-এর হামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখন অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন আর দালালের আস্তানায়...


Leave a Reply