নিজস্ব প্রতিবেদক | কুমিল্লা
আম্মু, আপনি কেন আমাকে রেখে গেলেন? আমাকেও আপনার কাছে নিয়ে যান।—মায়ের কবরের পাশে বসে ৮ বছর বয়সী শিশু সামিয়ার এমন বুকফাটা আর্তনাদের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সৎমায়ের অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে শিশুটির এমন আকুতি নাড়া দিয়েছে লাখো মানুষের হৃদয়।
ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার লালমাই উপজেলায়। সামিয়ার মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা পুনরায় বিয়ে করেন। অভিযোগ উঠেছে, বিয়ের পর থেকেই সৎমা আয়েশা আক্তার ছোট্ট সামিয়ার ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। মায়ের অভাব দূর হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো নির্যাতনের শিকার হয়ে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে এই এতিম শিশুটি। একপর্যায়ে ঘর থেকে পালিয়ে মায়ের কবরের পাশে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।
‘কুমিল্লা নিউজ’ নামক একটি ফেসবুক পেজে সামিয়ার কান্নার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। নেটিজেনরা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। অনেকেই মেয়েটিকে খুঁজে বের করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছাও পোষণ করেন।
ভিডিওটি নজরে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেন লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু। গত মঙ্গলবার শিশু সামিয়া এবং তার সৎমা আয়েশা আক্তারকে ইউএনও কার্যালয়ে হাজির করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আয়েশা আক্তার নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভবিষ্যতে সামিয়ার সাথে আর কখনোই খারাপ আচরণ করবেন না মর্মে তিনি প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
এ বিষয়ে ইউএনও উম্মে তাহমিনা মিতু সংবাদমাধ্যমকে জানান, “শিশুটির সৎমাকে আপাতত এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যদি সামিয়ার ওপর পুনরায় কোনো নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপে স্থানীয়রা সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও সামিয়ার স্থায়ী নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত অনেকে। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, শিশুটির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
