শতাংশ হিসাব করে ঘুষ নিতেন সাব-রেজিস্ট্রার ইমরুল খোরশেদ, সমিতির সাবেক ও বর্তমান সভাপতি সেক্রেটারিদেরকে নিয়ে নানান জল্পনা কল্পনা, তদবির কান্ডে অর্থকে পুজি করে পদোন্নতি
শতাংশ হিসাব করে ঘুষ নিতেন সাব-রেজিস্ট্রার ইমরুল খোরশেদ, সমিতির সাবেক ও বর্তমান সভাপতি সেক্রেটারিদেরকে নিয়ে নানান জল্পনা কল্পনা, তদবির কান্ডে অর্থকে পুজি করে পদোন্নতি
চাহিদা মতো ঘুষ দিলে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অসম্ভব বলে কিছুই নেই। অভিযোগ রয়েছে, সাব রেজিস্ট্রার ইমরুল খোরশেদ ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না। এতে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয় গ্রাহকদের। সিন্ডিকেটের রোষানলে দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় প্রতারণা ও জালিয়াতি, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, স্থানীয় রাজনৈতিক, সময়ক্ষেপণ ইত্যাদি নানা কৌশলের ফাঁদে ফেলে অনিয়মের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার মতো সুস্পষ্ট অভিযোগ উঠেছে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে তবে দলিল লেখক ভেন্ডার সমিতির সাবেক সভাপতি সেক্রেটারি ও বর্তমান আহবায়ক পদে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে নানান জল্পনা কল্পনা শেষ নেই, প্রত্যেকটি অনিয়ম বহির্ভুত কাজের সঙ্গে এরাও জড়িত। সমিতির নেতাকর্মীদের মাধ্যমে আওয়ামী আমলে কেরানীগঞ্জ এলাকায় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, মন্ত্রী নজরুল হামিদ বিপু ও বিপুর সাংগঠনিক সহযোগী মামুনের সকল কাজগুলো ৩য় পক্ষের সাহায্যে দলিলে সই করতো। প্রতি সপ্তাহ আর প্রতি মাসে একটা ফান্ড মন্ত্রী চেয়ারম্যান আর ও অন্যান্য নেতাকর্মীদের পক্ষে পকেট ভারি হতো।
কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ কতিপয় দালালদের নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেটের কালো থাবায় পড়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এই উপজেলার সাধারণ মানুষদের। হয়রানীতে আরও যোগ হয়েছে অসাধু কিছু দলিল লেখক। সরকারি ফির বাইরেও জমির মূল্যের দশমিক ৫ শতাংশ ( প্রতি লাখে ০.৫% থেকে ১%) অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে সাব-রেজিস্ট্রারের জন্য। অর্থাৎ জমির মূল্য ১ কোটি টাকা হলে সাব-রেজিস্ট্রারের হাদিয়া বরাদ্দ হয় ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণে যোগদান। কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব রেজিস্ট্রার অফিসে যখনই যে কর্মকর্তা দায়িত্বরত ছিলো বিপু-শাহীনের হুকুমের গোলাম না হলে বদলী হতো টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ায়। বিপু সিন্ডিকেটের রোষানলে তাল মেলালেই কর্মকর্তারা পেতো বিশেষ সুযোগ সুবিধা। বিপুর নিষেধে টানা ১০ বছর শুধু রাজেন্দ্রপুর রেজিস্ট্রি অফিসে জমি নিবন্ধন করতে পারেননি সাধারণ মানুষ। শুধুমাত্র বিপুর ক্লিয়ারেন্স ছাড়া সাব রেজিস্ট্রার ইমরুল সই করতেন না দলিলে। রাতের আধারে বিপুর নির্দেশে ইমরুল কত শত দলিল সই করেছে তা অগণিত। বৈধ-অবৈধ উপায়ে কামিয়েছেন বিপুল অর্থ, তেমনি মিডিয়া ম্যানেজ করতেও ভুলেনি ইমরুল। মূলত পতিত সরকারের হুকুমের গোলাম ইমরুলরা এখনো বহাল তবিয়তে। ৫ই আগস্টের আগের ইমরুল ও জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী ইমরুলের মধ্যে কোনো পার্থক্যই নেই শুধু বদলেছে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সিন্ডিকেট। এভাবেই অনিয়মে কালো টাকাকে সাদা করে বেড়াচ্ছেন ইমরুল খোরশেদের মতো গ্রেড-এ সাব রেজিস্ট্রার কর্মকর্তারা।
একইভাবে অন্যান্য সেবাখাতেও দিতে হয় কমিশন, আছে সেবা অনুযায়ী নির্ধারিত অংক! অনেকটা রেস্টুরেন্টের ম্যানু কার্টের মতো অদৃশ্য এই অনৈতিক অর্থ আদায়ের তালিকা পরিণত হয়েছে নিজস্ব নিয়মে।
ঘুষ আদায়ের কৌশল হিসেবে সাব-রেজিস্ট্রারের রুটিনমাফিক কাজ নকলনবিশ, উমেদার ও পিওন দিয়ে করানো হচ্ছে। এই সুযোগে নকলনবিশ, উম্মেদার ও বিপুল অর্থের মালিক বনে যাচ্ছে। নিবন্ধন ম্যানুয়াল অনুযায়ী সাব রেজিস্ট্রাররা তাদের নিজেদের কাজ নকলনবিশ, উম্মেদার ও পিওনদের দিয়ে করাচ্ছেন। দলিল চেক করার কাজ সাব-রেজিস্ট্রারদের করার নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না অনেকেই। অনুসন্ধানে ও সরেজমিন এসব তথ্য উঠে এসেছে।
অবৈধভাবেঅর্থ আদায়, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি, নির্ধারিত ফিসের বাইরে
অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মূল দলিলের নকল
উত্তোলন করার জন্য সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে ২/৩ গুণ বেশি ফি আদায়, টাকার বিনিময়ে মূল
দলিলের নকল কপিতে ভূয়া গ্রহীতার নাম
লিখে নকল সরবরাহ করা, মূল দলিলে
গ্রহীতার নাম পরিবর্তন করে দেয়াসহ নানা
অপকর্মের মহোৎসব চলছে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে। দুর্নীতির মহোৎসবের লীলাখেলায় সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। ইমরুল খোরশেদ সাব-রেজিস্ট্রার পদে গত ৩১-০৩-২০১১ ইং তারিখে চরভদ্রাসন ফরিদপুরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগদান করেন। সদরপুর ফরিদপুর, গজারিয়া, উত্তরা, শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজার, ত্রিশাল ময়মনসিংহ, সদর মৌলভীবাজার কর্মস্থলের সুযোগ হলে পরবর্তীতে বদলী আদেশে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণে ০৯-১০-২০২৩ ইং যোগদান করেই নানা অপকর্ম করে দুহাতে কামিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমান অর্থ। কেরানীগঞ্জ দক্ষিণে যোগদান করেই সাব-রেজিস্ট্রার ইমরুল খোরশেদ শুরু করেন নানা ফন্দি ফিকিরের দুর্নীতি। দলিল মূল্যের ১% থেকে ০.৫% অগ্রিম গ্রহণ ব্যতিত দলিল করেন না তিনি। সেরেস্তা ফি’র নামেও আদায় করেন অতিরিক্ত খরচ।
মোহাম্মদ ইমরুল খোরশেদ বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বপালন অবস্থায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। পরবর্তী কমিটিতে হিডেনলাইন থেকে নেতৃত্বদানের আশ্বাসে সদস্য পদ বাগিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তেজগাঁওতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নিয়ে বসবাসসহ নিজ জেলা শরীয়তপুরে অঢেল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে নামে বেনামে, যার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রতিবেদকের নিকট রয়েছে। তিনি দুর্নীতিতে এতই আতুরগ্রস্ত যে তার মুঠোফোন সবসময় বন্ধ থাকে, সাব রেজিস্ট্রারকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।
তবে কর্মকর্তার গ্রামের বাড়ি পৈতৃক ভিটা থেকে নিজের সাম্রাজ্য কে অঢেলভাবে গড়ে তুলার তুমুল ঘটনার বিবরনী আর অফিসে অনিয়মের লেনদেনের তথ্য পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশিত হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ
ফ্যাসিস্ট আইনমন্ত্রীর খাসলোক, শরীয়তপুর সদরে আইনজীবীর কাছ থেকে চাদা দাবি করা সেই বেপরোয়া কর্মকর্তা ডেমরা সাব রেজিস্টার অফিসে দুই বছরের বেশি সময় ধরে একই চেয়ারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে
রাজধানী ঢাকার ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দলিল লেখক ভেন্ডার সমিতির সখ্যতায় একটি...
নারায়ণগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব সাংবাদিকের ওপর ‘টিটু সিন্ডিকেট’-এর হামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখন অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন আর দালালের আস্তানায়...
ফতুল্লায় চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে হামলা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে জেলা বিএনপি ও জেলা পরিষদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বার্তাক নিউজ নারায়ণগঞ্জ | ২৪ মার্চ, ২০২৬ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জমি দখল ও...


Leave a Reply